ফরাসি শিক্ষার্থীদের রাজপথ দখল: অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মুখে চোখ ও হাত হারাল দুই ছাত্র

স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের দাবিতে চলা আন্দোলন রূপ নিয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে; আহত কয়েকশত, গ্রেপ্তার প্রায় ৫ হাজার।

by ABDUR RAHMAN
ফরাসি শিক্ষার্থীদের রাজপথ দখল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা, তীব্র শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মারাত্মক সহিংস রূপ ধারণ করেছে। উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় বিস্ফোরক জাতীয় গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে লিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কিশোর শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
banner

লঁসের অগুস্ত বেহাল উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে ঘটা এ দুর্ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, শিক্ষার্থীদের দিক থেকে পাথর ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়া শুরু হলে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও স্টিং-বল গ্রেনেড নিক্ষেপ করে; কিশোরটি সেটি তুলে ফেরত পাঠাতে গিয়েই আহত হয়। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ সরাসরি গ্রেনেড ছুড়লে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শীদের পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে ঘটনাটির বিচারিক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এক চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিক্ষোভ ছড়ানোর পর থেকে এ পর্যন্ত ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ১০টি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে তদারকি সংস্থা।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠে শিক্ষকদের ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশটির ৩,৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০০টি পুরোপুরি বা আংশিক অবরুদ্ধ রয়েছে। অনেক ভবনের ভাঙা ছাদ, শ্রেণিকক্ষে পানি পড়া, তেলাপোকার উপদ্রব এবং গ্রীষ্মের অতিরিক্ত গরমে শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছে শিক্ষার্থীরা। বেশ কিছু স্থানে বিক্ষোভকারীরা স্কুলের গেটে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ২৪টি বিদ্যালয় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নো শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিকে ‘ন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনতিব্লিমে অনুপস্থিত শিক্ষক পদ পূরণ, দীর্ঘ স্কুল-সময়সূচি পুনর্বিন্যাস ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারে প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দমনে মারাত্মক প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। শিক্ষক, শ্রমিক ও অভিভাবক সংগঠনগুলো সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়ায় ফ্রান্স সরকারের জন্য এই আন্দোলন এখন সবচেয়ে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ