আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই জের ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে আন্দোলন বানচাল করতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশ ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, পুনে থেকে আন্দোলনগামী একদল শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের বাস থামিয়ে আটক করা হচ্ছে এবং অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুম্বাই, নাগপুর ও চন্দ্রপুরসহ একাধিক এলাকায় দলীয় কর্মীদের থানা থেকে পুলিশি নোটিশ প্রদান ও ভ্রমণ তথ্য চাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বলে আখ্যা দেন। তবে সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আটকে রেখে গণআকাঙ্ক্ষা দমানো যাবে না; বরং যত বেশি আটক করা হবে, যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তত বাড়বে।
ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ সংশোধন’-এর নামে যোগ্য ও প্রকৃত নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সিজেপি। অপরদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কমিশনের ভাষ্যমতে, মৃত ব্যক্তি, ভুয়া ও দ্বৈত ভোটারদের নাম ছেঁটে তালিকা নির্ভুল করাই এই কার্যক্রমের একমাত্র লক্ষ্য।
এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গোটা ভারতে বিরোধী বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ থেকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অভিজিৎ দিপকের পাশাপাশি প্রখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজ একাত্মতা জানিয়ে সিইসি-র পদত্যাগ দাবি করেন।
পুলিশি চাপ, গ্রেফতারের আশঙ্কা কিংবা প্রশাসনিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও আগামী ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘিরে কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সিজেপির নীতিনির্ধারকেরা। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মুখে শনিবারের দিল্লির যন্তর মন্তরের সমাবেশে কী পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে এবং পুলিশ কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়—এখন সেদিকেই দৃষ্টি পুরো ভারতের।
সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া

