আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ভাঙার অপচেষ্টা রুখে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান শহরের রহিম বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত মন্দিরটি সরকারি হেফাজতে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি)।
বার্তা সংস্থা পিটিআই এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে রহিম বাজার এলাকায় ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দিরটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তা আটকে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি ভবনটি ভাঙার ঠিকাদারি পাওয়ার দাবি করলেও ক্ষুব্ধ জনতা তা প্রতিহত করেন। পরে ডেরা সিভিল সোসাইটি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সোহেল আহমেদ আজমির কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সাবেক আইনপ্রণেতা এবং সমাজকর্মীরা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে প্রস্তাবিত ওই নির্মাণকাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি জাতীয় পরিষদে উত্থাপনের দাবি জানানো হয়।
জানা গেছে, ইটিপিবির তত্ত্বাবধানে থাকা ডেরা ইসমাইল খানের প্রায় ৪০০টি ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক স্থাপনার তালিকায় রামলীলা মন্দিরটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ফেলে যাওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা এখনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গভর্নরের শাসনের মধ্যেই এই মন্দির রক্ষার আন্দোলন নতুন করে দেশটির সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে মন্দিরটি সিলগালা অবস্থায় প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং এর মালিকানা ও বাণিজ্যিক নির্মাণের বৈধতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে আসছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: ডন, ইন্ডিয়া টুডে

