৯ মাসে দেশে ফিরলেন ১৬৮৭ নারী শ্রমিক: বড় একটি অংশই আসছে নির্যাতনের শিকার হয়ে

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শূন্য হাতে ও আউটপাসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন নারী কর্মী। এর মধ্যে সিংহভাগই সৌদি প্রবাসী, যাঁদের বড় একটি অংশ গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

by ABDUR RAHMAN
৯ মাসে দেশে ফিরলেন ১৬৮৭ নারী শ্রমিক

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বিদেশে গিয়ে নানা বঞ্চনা, নির্যাতন ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ৬৮৭ জন নারী শ্রমিক সম্পূর্ণ শূন্য হাতে এবং আউটপাসের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরব থেকেই ফিরেছেন ৯৭৯ জন, যা মোট প্রত্যাবাসিত নারীর প্রায় ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
banner

বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সরকারের কাছে না থাকলেও বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে সংরক্ষিত আউটপাসের তথ্য অনুযায়ী এই চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব ছাড়াও জর্ডান থেকে ২২৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৮ জন, ভারত থেকে ৫২ জন এবং মালয়েশিয়া থেকে ৪৮ জন নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি (৩৩১ জন) এবং এপ্রিলে ২৩৬ জন নারী কর্মী দেশে ফেরেন।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) গবেষণাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা নারী গৃহকর্মীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কফিল বা নিয়োগকর্তাদের দ্বারা পাসপোর্ট জব্দ করে বহিরাগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।
সাভার ও দোহারের ভুক্তভোগী বহু নারী জানিয়েছেন, দিনের পর দিন অবরুদ্ধ রেখে তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, এমনকি অনেকে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভাগ্যহত নারীদের মরদেহ কফিনে করে দেশে আসার নির্মম চিত্রও রয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির (নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এবং তা ঢাকাকে না জানানোর বিষয়টি প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক তদারকি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিপাইন বা ইন্দোনেশিয়ার মতো ডরমিটরিভিত্তিক সুরক্ষার ব্যবস্থা না রেখে সরাসরি একক গৃহের অভ্যন্তরে অরক্ষিত অবস্থায় নারীদের নিয়োগ দেওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। পাশাপাশি ‘কাফালা’ প্রথার অপব্যবহার এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহিতার অভাবে এই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গৃহভিত্তিক কর্মসংস্থান বাতিল করে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজার তৈরি এবং ভুক্তভোগীদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ