জ্বালানি সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন রপ্তানিকারকরা: মাওলানা মামুনুল হক

তেল-গ্যাসের সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মে গার্মেন্টস উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। শিল্প খাত রক্ষায় জ্বালানি সংকট নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

by Master Fatih
লক্ষ্মীপুরের নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন রপ্তানিকারকরা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক। দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাত রক্ষায় জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাদ জোহর লক্ষ্মীপুর টাউন হল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও নাগরিক জীবনের সংকট সমাধানের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি গার্মেন্টস শিল্প। এ খাতের রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাঁর দাবি, তেল-গ্যাসের সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের কারণে দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ উৎপাদন কমলেও শ্রমিকদের মজুরি ও কারখানার অন্যান্য নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সরকারি ভর্তুকি পেলেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পারছেন না। এতে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় আয় কমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। জ্বালানি খাত বিদেশি স্বার্থের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে কেবল সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। জুলাই জাতীয় সনদ ও এর অভিপ্রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার স্থায়ী করতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার টেকসই করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

মামুনুল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য।

আল্লামা মামুনুল হক জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ।

বিশেষ বক্তা ছিলেন শায়খ মুফতি আবদুল মতিন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ