আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবিতে দেশজুড়ে জোরালো আন্দোলনের ডাক দিয়েছে রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং একাধিক প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন। আগামী ১০ অক্টোবরের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশের মানুষকে রাজধানী দিল্লিতে এসে আন্দোলনের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন ‘এএসএপি’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার এই ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, শুধুমাত্র সিইসির পদত্যাগেই তাদের আন্দোলন থামবে না। তাদের মূল দাবি নির্বাচনি ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস আন্দোলনের মূল দাবিগুলো তুলে ধরে জানান—সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত করা, আসন্ন নির্বাচন বন্ধ রাখা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং বিষয়গুলোর ওপর স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রণীত বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচির বিষয়ে সৌরভ দাস জানান, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের জন্য ইতোমধ্যে দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র নেতারা এই লড়াইকে ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের’ সংগ্রাম হিসেবে আখ্যা দেন। এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরা বলেন, এই ইস্যুতে জনগণ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলো এককাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে যে মিছিল করেছিলেন, তাতে পূর্ণ সমর্থন জানান তিনি। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে বিরোধী দলগুলোর ছাত্র ডানাগুলো সরাসরি অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এসএফআই নেতা আদর্শ শাজি অভিযোগ করেন, বর্তমান সিইসির অধীনে ভারতীয় গণতন্ত্র গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এই সিজেপির নেতৃত্বেই বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যার জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করেন সিজেপি নেতারা। এবারও সিইসির বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াই দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

