আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
সিরিয়ার উপকূলীয় প্রদেশ লাতাকিয়ায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্নকারী এক হাজার নারী ও পুরুষ হাফেজ-হাফিজাকে দেওয়া হলো বিশেষ সংবর্ধনা। দেশের ধর্মবিষয়ক আওকাফ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে লাতাকিয়া আওকাফ অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সেবা সংস্থা ‘উম্মাহর জন্য’-এর সমন্বিত আয়োজনে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করা হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) লাতাকিয়া শহরের পৌর স্টেডিয়ামে এক সুবিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সিরিয়ার আওকাফমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবু আল-খাইর শুকরি। এছাড়া লাতাকিয়ার গভর্নর আহমদ মুস্তফা, আলেপ্পোর বিশিষ্ট মুফতি ড. ইবরাহিম শাশু সহ স্থানীয় বহু বিশিষ্ট আলেম ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তি এতে অংশ নেন। হাজারো সংবর্ধিত হাফেজ ও তাঁদের আবেগপ্লুত স্বজনেরা পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত করে রাখেন।
সম্মাননা প্রাপ্তদের মাঝে কেবল ছোট শিশু বা তরুণরাই ছিলেন না; এতে যুক্ত ছিলেন প্রবীণ ব্যক্তিরাও, যারা জীবনপ্রান্তে এসে নীরবে কোরআন হেফজের দীর্ঘ সফর সমাপ্ত করেছেন। লাতাকিয়া আওকাফ প্রধান খালিদ আমর জানান, কঠোর সাধনা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁদের এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। সম্মানিতদের মাঝে অনেকে শরণার্থী শিবিরের প্রতিকূল পরিবেশ কিংবা প্রবাসের ব্যস্ততার মধ্যেও আমানত রক্ষা করে কোরআন বুকে ধারণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কিরাআতে আশারা কুবরা অর্জনকারী ডক্টরেট ডিগ্রিধারী ফাতিমা আহমদ বায়াজিদ বলেন, “১৯৯৪ সালে কোরআন মুখস্থ করলেও এই প্রাপ্তি বর্ণনাতীত আনন্দের।” একই সাথে তিনি সমাজের অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য কোরআনি শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেন। অপর এক সম্মানিত ব্যক্তি বাশার আবদুল্লাহ খারবুতলি সিরিয়ার শহীদদের সম্মান জানিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে জীবন পরিচালনা করার আহবান জানান।
আয়োজক সূত্র জানায়, তরুণদের নৈতিক চরিত্র গঠন, প্রজ্ঞার প্রতি আকৃষ্ট করা এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মান জানানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। জানা গেছে, এর আগে ২৩ আগস্ট দামেস্কের বিখ্যাত উমাইয়া মসজিদ ও ইমান মসজিদে দেশের সর্ববৃহৎ কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২২৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সিরিয়া জুড়ে ধর্মীয় শিক্ষার ধারা বেগবান করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: সোস্যাল এশিয়ান

