অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাকস্বাধীনতা হরণ, রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মকাণ্ড মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং অরাজক পরিস্থিতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রীসংস্থার নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার, মামলা প্রত্যাহারের জন্য অনুচিত চাপ সৃষ্টি, বাড়ি থেকে ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানি এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার মতো ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের মতে, এসব ঘটনা বিএনপির নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণ ও চলমান অরাজকতার উদ্বেগজনক চিত্র উন্মোচন করছে।

ছাত্রীসংস্থার শীর্ষ দুই নেত্রী বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ধারাবাহিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে শুরু করে নিরপরাধ মানুষকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার মতো অপরাধগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এগুলো সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অরাজকতারই অংশ।”
তারা আরও যোগ করেন, যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অন্যায়ের পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দেশের জনগণ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, সেখানে আবার একই ধরনের অরাজকতা, প্রতিশোধ পরায়ণতা ও স্বৈরাচারী আচরণের চর্চা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে ছাত্রীসংস্থার নেতৃবৃন্দ প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত জবাবদিহির মুখোমুখি করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি, প্রতিহিংসা ও অরাজকতার চিরতরে অবসান ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
আর/

