ভারতের সিইসির পদত্যাগে সিজেপির ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি

১৩ কোটি ভোটার ছাঁটাই ও কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরের আদলে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

by ABDUR RAHMAN
ভারতের সিইসির পদত্যাগে সিজেপির ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও কোটি কোটি নাগরিকের ভোটাধিকার হরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। পদত্যাগের জন্য সিইসিকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দলটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সরে না দাঁড়ালে ভারতজুড়ে চরম আন্দোলন ও দেশটির রাজধানী দিল্লিতে অনড় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা যৌথভাবে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের মারাত্মক অভিযোগ তোলেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার নামে দেশটির ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে পরিকল্পিতভাবে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যানকে ভারতের মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট (এনডিএ) ও বিরোধী শিবিরের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সেই ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম কেটে দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতার কেন্দ্র থেকে ৫০ হাজারের বেশি, স্ট্যালিনের এলাকা থেকে ১ লাখ এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এলাকা থেকে ৪০ হাজার ভোট বাদ দেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ আনে সিজেপি।

অভিজিৎ দিপকের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যেসব শক্ত আঞ্চলিক নেতা বিরোধী জোট গঠন করেছিলেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতেই নির্বাচন কমিশনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে আসার পর থেকে ভারত স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই তোলপাড়ের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি আন্তর্জাতিক বিস্ফোরক প্রতিবেদন। উক্ত প্রতিবেদনে ফাঁস হয়, নির্বাচন কমিশনের ভোটার সংযোজন-বিয়োজন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার জোরালো লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তবে কমিশনের অভ্যন্তরে ফাটল ও মতভেদের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিবৃতি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিন সদস্যের প্যানেলে কোনো বিরোধ নেই দাবি করে ইসি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিন্নমত বা নোট দেওয়া তাদের স্বাভাবিক কর্মপদ্ধতি। চূড়ান্ত পর্যায়ে সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিজেপির পক্ষ থেকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো—

১. সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।

২. এসআইআর কার্যক্রম ও আসন্ন নির্বাচন স্থগিত রেখে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণের ভোটার তালিকা বহাল রাখতে হবে।

৩. ২০২৩ সালে পাস হওয়া বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করে সুশীল সমাজের পরামর্শে নতুন স্বাধীন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৪. সমস্ত এসআইআর-সংক্রান্ত মূল নথি সুপ্রিম কোর্টের হেফাজতে নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

সিজেপি নেতারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে যন্তর মন্তরে করা পূর্ববর্তী আন্দোলনের আদলে ভারতজুড়ে ‘নির্বাচন কমিশন ঠিক করো’ শীর্ষক এক কঠোর কর্মসূচি শুরু করবে তারা।

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ