ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পরও অনড় মামদানি: ‘নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা উচিত’

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার কারিগর আখ্যা; আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের জোর দাবি নিউইয়র্ক মেয়রের

by ABDUR RAHMAN
ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পরও অনড় মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিষয়ে নিজের কঠোর ও আপসহীন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা উচিত।

বিজ্ঞাপন
banner

সম্প্রতি গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি এই মন্তব্য করেন। তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি “যুদ্ধাপরাধী” এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত ভয়াবহ “গণহত্যার কারিগর” হিসেবে অভিহিত করেন।

সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। আইনি সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মামদানি জানান, একজন নগর মেয়র হিসেবে প্রেসিডেন্ট বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার কিংবা সফর ঠেকানোর আইনি একচ্ছত্র ক্ষমতা তার হাতে নেই। এ কারণে সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত মূল বিক্ষোভে সরাসরি অংশ নেবেন না বলেও জানান তিনি। তবে নীতিগত জায়গা থেকে নেতানিয়াহুকে আইনের মুখোমুখি করার পক্ষে তিনি সোচ্চার থাকবেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারিকৃত পরোয়ানার প্রসঙ্গ টেনে মামদানি বলেন, “আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইনি কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে এই পরোয়ানাকে সম্মান জানানো উচিত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ হতে পারে না। আইসিসি যদি কাউকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী মনে করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই আদালতের সদস্য নয়। ইসরাইল শুরু থেকেই আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিক হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

এদিকে, ট্রাম্প ও মামদানির সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নিউইয়র্ক শহরের কর্মজীবী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মামদানির প্রাথমিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে একটি সফল মেয়াদ আশা করেন। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর অর্থনৈতিক স্বস্তির স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন মেয়র জোহরান মামদানি।

সূত্র: সিএনএন ও টাইমস অব ইসরাইল

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ